Page Nav

HIDE

Grid

GRID_STYLE

Classic Header

{fbt_classic_header}

Top Ad

//

New Post:

latest

ধর্ম সৃষ্টির ইতিহাস-History of Religions

•এই পৃথিবীতে এত ধর্ম কেন? আনুমানিক প্রায় ৪,৩০০টির মতো ধর্ম রয়েছে এই পৃথিবীতে। এর মধ্যে প্রধান  ধর্ম  ১০টি। আসলে এত গুলো ধর্ম কিভাবে সৃষ্টি...

•এই পৃথিবীতে এত ধর্ম কেন?

আনুমানিক প্রায় ৪,৩০০টির মতো ধর্ম রয়েছে এই পৃথিবীতে। এর মধ্যে প্রধান ধর্ম ১০টি। আসলে এত গুলো ধর্ম কিভাবে সৃষ্টি হলো। এর মধ্যে প্রথম ধর্ম কোনটি? জানতে হলে এই ভিডিও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখতে থাকুন।

ধর্ম সৃষ্টির এই রহস্য সম্পর্কে বুঝতে হলে আমাদের আগে হযরত ইদ্রিস আঃ এর একটি ঘটনা জানতে হবে।  তার বেহেস্তে গমনের ইতিহাস।
একদিন হয়ত ইদ্রিস আঃ তাসবিহ তাহলীল পাঠে রত ছিলেন, এমন অবস্থায় হঠাৎ আজরাইল আঃ একজন সাধারণ মানুষ এর রূপ নিয়ে তার কাছে আসলেন। তখন তিনি আজরাইল আঃ কে একজন বিদেশী মেহমান মনে করে তাকে উপযুক্ত অভ্যার্থনা জ্ঞাপন করলেন।
হযরত ইদ্রিস আঃ সর্বদা রোজা রাখতেন এবং প্রতিদিন সন্ধ্যার পূর্বে তার ইফতারের জন্য বেহেস্ত থেকে খাবার আসতো। তাই তিনি বেহেস্তি খাবার খেয়ে ইফতার করতেন। আর ইফতার করে অবশিষ্ট যে খাবার বাকি থাকতো তা আবার বেহেস্তে ফেরত যেত। সেদিন বেহেস্ত হতে খাবার আসলেলে তিনি বেহেস্ত খাবার দ্বারা ইফতার করেন এবং মেহমান কেও খেতে দেন। কিন্তু সেই মেহমান রূপে ফেরেশতা আজরাইল আঃ খাবার খেলেন না। বরং সারারাত জেগে ইবাদত করলেন।
মেহমান ব্যাক্তির আচার আচরণ এবং কিছু বৈশিষ্ট্য বিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখা গেল। যা দেখে হযরত ইদ্রিস আঃ একটু বিস্মিয় বোধ করলেন।
পরদিন সকালে হযরত ইদ্রিস আঃ ফেরেশতা কে বললেন, চলুন আমরা একটু ভ্রমন করে আল্লাহ তায়ালার কুদরত সমূহ দেখে আসি। মেহমান তাতে সম্মত হয়ে দুজন একত্রে ভ্রমনে বের হলেন। কিছুদুর গিয়ে ঐ মেহমান বললেন, চলুন আমরা ঐ ক্ষেত হতে ফল তুলে ভক্ষন করি।হযরত ইদ্রিস আঃ তখন কিছুটা আশ্চর্য ও ক্ষোভ মিশ্রিত কন্ঠে বললেন, আপনি তো বড় আশ্চর্য মানুষ।রাতে আপনি হালাল খানা খেলেন না, অথচ এখন অপরের ক্ষেত হতে ফল তুলে খেতে চাইছেন। অন্যের মাল না বলে গ্রহন করা আমাদের জন্য একেবারে নিষিদ্ধ।
মেহমান তার কথার জবাব না দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন। কিছুদুর যেতেই এক স্থানে কতগুলো ছাগল দেখলেন। যা দেখে তিনি আবারো আগের মতো বললেন চলেন ঐখান হতে একটি ছাগল এনে জবেহ করি। তা বেশ করে খাওয়া যাবে। হযরত ইদ্রিস আঃ তার কথা শুনে বললেন , অপরের ছাগল জবেহ করে খাওয়া যে পাপের কাজ , তা কি আপনার যানা নেই?
এভাবে ঐ আগন্তুক ব্যাক্তি ৩ দিন পর্যন্ত হযরত ইদ্রিস আঃ এর সাথে থাকলেন। তার আচার আচরণ দেখে হযরত ইদ্রিস আঃ এর মনে সন্দেহের সৃষ্টি হলো। এ ব্যাক্তি নিশ্চয় কোন মানুষ নয়। তাই তিনি এ লোকটিকে বললেন আল্লাহর কসম আপনি আপনার প্রকৃত পরিচয় টা বলুন।তখন সেই মেহমান জবাব দিলেন, আমি কোন মানুষ নই । আমি একজন ফেরেশতা।আমার নাম মালাকুল মাওত, আজরাইল আঃ। হযরত ইদ্রিস আঃ তখন বললেন আপনি কি দুনিয়ার সকল প্রাণীর জান কবজ করে থাকেন? তখন  মালকুল মওত হ্যা বোধক জবাব দিলে তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন , তবে মনেহয় আপনি আমার জান কবজ করতে এসেছেন? কিন্তু মালাকুল মওত বললেন না। আপনার সাথে ভাই সম্পর্ক স্হাপন করতে এসেছি। আমার একান্ত আশা যে আপনি আমার প্রস্তাবে রাজি হবেন।
হযরত ইদ্রিস আঃ বললেন , আমি আপনার সাথে এই শর্তে ভাই সম্পর্ক করতে পারি যে, আপনি আমাকে একবার মৃত্যু অবস্থা উপভোগ করাবেন। যদি আপনি আমাকে এখনি মৃত্যুর অবস্থা উপভোগ করান,তা হলে আমার অনেকটা উপকার হতো। মৃত্যুর ভয়ে আমি বেশী করে আল্লাহর ইবাদত করতে পারতাম।

 

ধর্ম সৃষ্টির ইতিহাস


তখন মালাকুল মউত বললেন আল্লাহর ইচ্ছা ছারা তো আমি পারি না যেহেতু এখনও আপনার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়নি।
হযরত ইদ্রিস আঃ বললেন আপনি আল্লাহর কাছে অনুমতি চেয়ে নিন। তখন মালাকুল মউত আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, আর আল্লাহ তায়ালা তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। অনুমতি পেয়ে আজরাইল আঃ হযরত ইদ্রিস আঃ এর জান কবজ করলেন। তার মৃত্যুর পরই আজরাঈল আঃ তাকে জিবিত করার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন। আর আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করলেন। তাকে জীবিত করে দিলেন।
জীবিত হওয়ার পর ইদ্রিস আঃ বললেন, ভাই আজ্রাইল। আমার মনে দোযক দেখার খুবই সাধ জাগিয়েছে। যদি আপনি দোযখ দেখাতেন, তাহলে দোযখের ভয়ে আমি ইবাদত বন্দেগীতে আরো বেশি মনোযোগী হতে পারতাম। তার প্রস্তাবের কথা শুনে আজরাইল আঃ তাকে দোযখের দরজা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। তিনি দোযখ দেখার পর বললেন, ভাই আমার মনে বেহেস্ত দেখার খুবই সাধ জাগিয়েছে।যদি আপনি সাধটি পূর্ণ করতেন, তাহলে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকতাম।তখন মালাকুল মউত বললেন, যদি আপনি আমার নিকট প্রতিশ্রুতি দেন যে, আপনি বেহেস্ত দেখে আমার নিকট ফিরে আসবেন। তাহলে আপনাকে দেখাতে পারি। হযরত ইদ্রিস আঃ তাতে রাজি হলে আজ্রাইল আঃ তাকে বেহেস্তের দরজায় পৌঁছে দিলেন। তিনি বেহেস্তের দরজায় নিজের জুতা খুলে রেখে তার ভিতরে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করলেন।তারপর ফিরে এসে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন। কিন্তু আবার পরক্ষণেই জুতা পায় দিয়ে এক দৌড়ে বেহেশতের ভিতরে ঢুকে পরলেন। মালাকুল মউত তাকে বললেন আপনি আবার বেহেস্তের ভিতরে ঢুকলেন কেন? তাড়াতাড়ি চলে আসুন।আমি আপনাকে দুনিয়াতে পৌঁছে দিয়ে আমার অন্যন্য কাজে রত হব। হযরত ইদ্রিস আঃ বেহেস্তের ভিতর হতে জবাব দিলেন, ভাই মালাকুল মউত। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন: প্রতেক প্রাণীই একবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করবে, এবং একবার দোযখ না দেখে কেওই বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে না। আমি তো একবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করলাম এবং দোজখও দেখলাম। এরপর বেহেস্ত হতে বের হয়ে আপনার সাথে আমার ওয়াদা পালন করলাম। অতএব এখন আর আমি বেহেস্ত থেকে বেড় হবো না। এবার আপনার কাজে চলে যান। ফেরেশতা আজরাইল আঃ হযরত ইদ্রিস আঃ এর কথা শুনে কর্তব্য স্হির করতে না পেরে দাঁড়িয়ে রইলেন।
তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আজ্রাইল কে লক্ষ্য করে বললেন, আজ্রাইল! ইদ্রিস কে বেহেস্তেই থাকতে দাউ।তার জন্যে আমি এরূপ ঘটনাই লিখে রেখেছিলাম। এরপর হযরত ইদ্রিস আঃ মহা সুখে বসবাস করতে লাগলেন।
আর এদিকে কিন্তু তার পরিবার বর্গ কেঁদে কেঁদে দিন কাটাতে লাগলেন।
কিছুদিন পর পাপিষ্ঠ ইবলিশ হযরয় ইদ্রিস আঃ এর সন্তানদের কাছে উপস্থিত হয়ে বললো, তোমাদের পিতার জন্য এভাবে দিন রাত ত্রুন্দন করে কি লাভ। আমি তোমাদের পিতার জনৈক ভক্ত উম্মত। তার সমস্ত উম্মতের মধ্যে আমিই ছিলাম তার সবচেয়ে প্রিয় ও স্নেহের পাত্র। তিনি জীবিত থাকা কালেই তার অবিকল আকৃতির একটি পাথরের মূর্তি তৈরি করে আমার নিকট দিয়ে বলে গিয়েছেন যে,আমার বেহেস্ত গমনের পর তোমরা সকলে আমার এ মূর্তিকেই ভক্তি শ্রদ্ধা করবে।তা হলে আমি তোমাদের প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট থাকব এবং তোমাদের প্রত্যেককের ভালোর জন্য আল্লাহর দরবারে সোপারিশ করবো।
পাপীষ্ঠ ইবলীসের ছলনায় হযরত ইদ্রিস আঃ এর সন্তান গন ভুলে গেল এবং তারা ঐ মূর্তি কে একটি পাহাড়ের উপর স্হাপন করে তার পূজা ও তাওয়াফ প্রভৃতি করতে শুরু করলো। ঐ মূর্তি টা হুবহু ইদ্রিস আঃ এর মতোই ছিল। যে লোক তা দেখতো, সেই মনে করতো যে, হযরত ইদ্রিস আঃ আঃ পাহাড়ের উপর উপবিষ্ট আছেন।
ইবলিশ হযরত ইদ্রিস আঃ এর সন্তানদের হাতে মূর্তি টা দিয়েই তার কর্তব্য শেষ করলো না । সে ঐ মূর্তি সম্পর্কে যে কথা হযরত ইদ্রিস আঃ এর সন্তানদের বলেছিল, সেই কথা পুরো অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রচার করতে লাগলো। ফলে সকলেই ইদ্রিস আঃ এর মূর্তির পূজা করতে আরম্ভ করলো।
ক্রমে অবস্থা এই দাড়ালো যে, হযরত ইদ্রিস আঃ এর প্রচারিত সত্য ধর্মের রীতিনীতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে মূর্তি পূজার ব্যাপক প্রসার লাভ করলো। সকলেই তাকে প্রকৃত ধর্মনীতি বলে মনে করতে লাগলো।
দর্শক মন্ডলি, শুধু ইদ্রিস আঃ এর ঘটনাই নয়, আমরা সবাই মূসা আঃ, ইব্রাহিম আঃ ও ঈসা আঃ এর ঘটনা সম্পর্কে অবগত।  ইব্রাহিম আঃ এর মৃত্যুর পর মূসা আঃ এর ধর্ম ইহুদি ধর্ম বিকৃত হওয়া শুরু হয়। আর ঈসা আঃ এর আসমানে যাওয়ার পর খৃষ্টান ধর্মের বিকৃতি হওয়া শুরু হয়। এই সবগুলো ঘটনা প্রমাণ করে এই পৃথিবীতে খনই কোন একজন নবী চলে যাবার পর নতুন নবী এসেছিল, তখনি নতুন ধর্মের সৃষ্টি হয়েছে। আর আনুমানিক ভাবে বলা হয় এই পৃথিবীতে ২ লক্ষ ২৪ হাজার নবী রাসুল এসেছিলেন। তবে যেহেতু এটা আনুমানিক তাই এর থেকে বেশীও হতে পারে আবার কমও হতে পারে।
তবে সকল ধর্মই যে নবীদের মৃত্যর পর তৈরি হয়েছে এমনটা নয়। বিশেষ করে ছোট ছোট ধর্ম গুলো। শুধু চন্দ্র সূর্যের পুজা, আগুনের পূজা করা হয় যেগুলো তবে। নির্দিষ্ট ধর্ম গ্রন্থ নেই যেগুলো তে‌। মূলত এই সব ধর্ম গুলু মানুষ এর এর ধারনা থেকে চলে এসেছে। অতিতে যখন মানুষ চিন্তা করতো আমার রব কে। তখন তারা আনুমানিক ভাবে কোন উত্তর না পেয়ে চন্দ্র সূর্য কে কিংবা যারা মূর্তি তৈরি করতো তারা তাদের মূর্তি গুলো কে ইশ্চর বানিয়ে ফেলত। মূর্তি পূজার কথা শুনে আপনাদের অনেকেরই মনে হয়তো প্রশ্ন জাগছে হিন্দু ধর্ম কি কাল্পনিক / বানোয়াট ধর্ম নাকি খ্রিস্টান ও ইহুদিদের মতো বিকৃত ধর্ম।
যেহেতে হিন্দু ধর্মের গ্রন্থ বেদ সহ আরো অন্যন্য ধর্ম গ্রন্থে  মুহাম্মদ সাঃ সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বানি করা আছে। আর পূর্ববর্তী সকল নবী গনই মুহাম্মদ সাঃ এর সম্পর্কে জানতেন।  তাই ধারনা করা হয় হিন্দু ধর্মও খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মের মতো বিকৃত ধর্ম। কালের বিবর্তনে এই ধর্ম গুলো বিকৃত হয়ে গেছে।
আশা করি বিষয় গুলো বুঝতে পেরেছেন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ভালো রাখুক সুস্থ রাখুক। আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহ

কোন মন্তব্য নেই